সবাইকে হতবাক করে ইতিহাসের সব থেকে সাহসী উদ্যোগ তামিমের
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছিল-সুযোগ সীমিত, প্রতিযোগিতা সংকীর্ণ! সেই বাস্তবতা বদলাতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন তামিম ইকবাল।
এতদিন জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) কিংবা বিসিএলের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি বিভাগ একটি করে দল নিয়ে অংশ নিত। ফলে প্রথম একাদশের বাইরের ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগ ছিল সীমিত। এবার সেই চিত্র পাল্টাতে যাচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগেরই থাকবে দুটি করে একাদশ-প্রথম ও দ্বিতীয় দল। আসন্ন মৌসুম থেকেই এই ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছেন বিসিবির সভাপতি তামিম।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা। তামিম নিজেই সেই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট যেভাবে ডিজাইন করা, একটা সেগমেন্টের ক্রিকেটারের জন্য আমাদের বেশিরভাগ ক্রিকেট। যারা জাতীয় দলে খেলে তারাই বিপিএল, এনসিএল, বিসিএল, এনসিএল টি-টোয়েন্টি খেলে। এক ধরনের খেলোয়াড়রাই ৬-৭ ধরনের টুর্নামেন্ট খেলছে। যারা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট খেলে, তাদের কী অবস্থা? প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ যারা খেলে, তাদের জন্য লিগ ছাড়া আর কোনো খেলাই নাই। আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিভাগ বা তৃতীয় বিভাগ থেকে কোনো প্লেয়ার উঠে এসে জাতীয় দলে খেলেছে। এটা ইতিহাসে কম এই কারণে আমরাই তাদেরকে সেই প্ল্যাটফর্মটা তৈরি করে দিতে পারিনি। আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই মৌসুম থেকেই শুরু করব।’
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মূলত একটি নতুন ‘পাইপলাইন’ তৈরি করতে চায় বোর্ড। প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়া কিংবা নিয়মিত একাদশের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা দ্বিতীয় দলে খেলে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে চোট থেকে ফেরা খেলোয়াড়দের জন্যও এটি হবে প্রস্তুতির মঞ্চ।
তামিম এই ব্যবস্থার বাস্তব সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘এটার সুবিধা হচ্ছে, অনেক প্লেয়ার দ্বাদশ, ত্রয়োদশ প্লেয়ার হিসেবে আজীবন থেকে যায়। তাদের জন্য আরেকটা টুর্নামেন্টের সিস্টেম ছিল না আগে। আরেকটা একাদশ হলে ১৫০-২০০ ক্রিকেটার নতুন করে খেলার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচগুলো হবে তিন দিনের ম্যাচ। এই যে পিকনিক ক্রিকেট যে কথাটা উঠে আসে, এর দায় ক্রিকেটারদের না শুধু, আমরাও, বোর্ডেরও দায় আছে। আমরাই সেই কালচার তৈরি করেছি।’
এই কাঠামো শুধু সুযোগ বাড়াবে না, বরং প্রতিযোগিতাও তীব্র করবে-এমনটাই বিশ্বাস তামিমের। তার মতে, দ্বিতীয় একাদশের ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি ক্ষুধা তৈরি হবে, যা তাদের প্রথম একাদশে জায়গা করে নিতে আরও তাড়িত করবে।
তামিম বলেন, ‘দ্বিতীয় একাদশের সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি থাকবে? না, মিনিমাম ম্যাচ ফি থাকবে। তাদের মধ্যে অই ক্ষুধাটা আনতে হবে যে অই যে ৬৫ হাজার টাকা বেতন করেছি, ১ লাখ টাকা ম্যাচ ফি করেছি অইটাকে চ্যালেঞ্জ করার, কীভাবে দ্বিতীয় একাদশ থেকে পারফর্ম করে প্রথম একাদশে ঢোকা (যায়)। এই প্রতিযোগিতাটা সৃষ্টি করা আমাদের দায়িত্ব।’
এই পরিকল্পনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চোট থেকে ফেরা খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা প্রস্তুতির সুযোগ। তামিম উদাহরণ টেনে বলেন, ‘পিকনিক কথা বলে যেভাবে বলেছিলাম, আজকে তাসকিন আহমেদ চোট পেলে আমরা কী করি? প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে পাঠায়ে দেই, আমরাই বলে দেই ৬ ওভারের বেশি যেন বল না করে। তখন তাসকিন আহমেদ যাবে দ্বিতীয় একাদশে, তখন অনেক রিল্যাক্সড নিয়ম থাকবে। উদাহরণ হিসেবে জফরা আর্চার চোট থেকে সেরে উঠে দ্বিতীয় একাদশে ম্যাচ খেলে নিজেকে বিল্ডাপ করেছে। এটা খুবই জরুরি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য, এমন টুর্নামেন্ট করা।’
তবে এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সামনে আসা বোর্ড নির্বাচনের ওপর। বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে নতুন বোর্ডের কাছে। তামিম যদিও আশাবাদী—যে কেউ দায়িত্বে আসুক, দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য এই কাঠামো বজায় রাখা হবে।
বিসিবি সভাপতি জানাচ্ছিলেন, ‘সামনে নির্বাচনে যে কেউ থাকতে পারে, যদি এই সিস্টেম আমরা করে দিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় যদি (নতুন যারা আসবে), এটা চালিয়ে যাওয়া অনেক জরুরি। এই
বছর থেকেই এটা দেখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।’

No comments