খালেদ আহমেদ ও মুরাদকে বাদ দেওয়ার যে অদ্ভুত কারণ দেখালেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার

 



পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মধ্যে প্রথম টেস্টের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। সেই দলে চমক ছিল কিছু। আগের অনেক ক্রিকেটারের বাদ পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।  



সর্বশেষ আয়ারল্যান্ড সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, জাকের আলী অনিক, হাসান মুরাদরা। দলে নতুন মুখ অমিত হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিম। ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাঈম হাসান। বিসিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতি দিয়ে অমিত এবং তানজিদকে দলে আনার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। এবার সংবাদ সম্মেলনে পুরো দল নিয়েই দিয়েছেন ব্যাখ্যা।


বাদ পড়াদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা হাসান মুরাদ। ২ টেস্টে ১২ উইকেট তুলেও কেন বাদ মুরাদ? সংবাদ সম্মেলনে বাশার বলেছেন, ‘(মুরাদের বাদ পড়া) পুরোপুরি ট্যাকটিক্যাল কারণ। পারফরম্যান্স কোনো ইস্যু ছিল না, কারণ হাসান মুরাদ খুবই ভালো বল করেছে গত সিরিজে। কিন্তু পাকিস্তান দল দেখে, যেখানে আমরা দেখেছি, বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্য টপ অর্ডারে। এজন্য আমরা ভেবেছি হাসান মুরাদের চেয়ে নাঈম হাসান... সেও (নাঈম) কিন্তু যখন বাদ পড়েছিল, তখন ফর্মের কারণে বাদ পড়েনি, ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তে তখন দলে আসেনি। এবারও একদমই ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত।’


দুই পেসার খালেদ আহমেদ এবং ইবাদত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রধান নির্বাচক জানালেন, ‘আমাদের এখানে আসলে আলোচনাটা বেশি হয়েছে খালেদ আর এবাদতকে নিয়ে। তাসকিন অটোমেটিক চয়েজের মতো। তাসকিন, (নাহিদ) রানা, আমরা শরীফুলকে দেখতে চাই, কারণ টেস্ট ম্যাচে সেও দলের জন্য ভালো সম্পদ, ভালো বোলিং করছে। ইবাদত আর খালেদের মধ্যে আমাদের একটু কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, খালেদ অনেক লাইন-লেন্থ ধরে রাখতে পারে, ইবাদত উইকেটশিকারি বেশি। আমরা ওইদিকে (ইবাদতের দিকে) গিয়েছি। খালেদ খারাপ বোলিং করেনি, বেশ ভালো বল করেছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ইবাদত বেশি আগ্রাসী বোলার টেস্টে।’


চোট সমস্যার কারণে টেস্ট ম্যাচ থেকে বিরতি চেয়েছিলেন তাসকিন। ফিটনেস ঠিক এবার টেস্টে ফিরতে প্রস্তুত তাসকিন আহমেদ। তাই তাকে ফেরানো হয়েছে টেস্টের দলে। বাশার জানিয়েছেন, ‘তাসকিন ফিট। টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য ফিট, সেটা আমাদের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে অনেকদিন ধরে খেলছে না বটে, তবে আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে সে নিজের সেরা অবস্থায় আছে। টেস্ট ম্যাচ যখন খেলেছে, খারাপ খেলেনি। তাসকিনকে নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছি, ওকে আসলে আমরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাব। ওর ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট খেলাব। এভাবে ম্যানেজ করলে আমরা খেলাতে পারব। তাসকিনের একটা ব্যাপার আছে, সে খেলার জন্য খুব আগ্রহী। (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে) এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু যেহেতু ও আমাদের টেস্টের পরিকল্পনায় আছে, তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে রাখিনি। হি ইজ গুড, হি ইজ ওকে।’


বাদ পড়াদের সাথে ঢাকাই ফিরেই সামনাসামনি আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন বাশার, ‘আমি চট্টগ্রামে আছি, কাজেই সামনাসামনি কথা বলতে পারিনি। মাঝখানে দুই দিনের জন্য গিয়েছিলাম (ঢাকায়), ওরা ঢাকার বাইরে ছিল। জাকের আলীর সঙ্গে কথা বলেছি। ফিরে যাওয়ার পর আবার সামনাসামনি বসব। তবে জানানো হয়েছে কেন সে বাদ পড়েছে।

হাসান মুরাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, অধিনায়কও কথা বলেছে। আমি গিয়ে সামনাসামনি কথা বলব। খালেদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। আমি ওদেরকে ব্যাখ্যা করেছি, তবে সামনাসামনিও বসব, যখন (ঢাকায়) ফিরে যাব।’


বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যস্ত টাইগাররা। ৮ মে ঢাকা টেস্ট দিয়ে শুরু হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যা

চের টেস্ট সিরিজ।

No comments

Powered by Blogger.