হঠাৎ তামিমকে নিয়ে অবিশ্বাস্য মন্তব্য করে ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন সাকিব

 



দীর্ঘদিনের মাঠের লড়াই, নেতৃত্বের দ্বৈরথ আর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ছাপিয়ে আবারও আলোচনায় সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবাল রসায়ন। তবে এবার মাঠের কোনো ঘটনা নয়, আলোচনায় সাকিবের একটি মন্তব্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়া তামিম ইকবালকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য এবং আরও শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে চান সাকিব। তার এই প্রকাশ্য সমর্থন কি দুই বন্ধুর মাঝে জমে থাকা বরফ গলার ইঙ্গিত, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ?




আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গত ৭ এপ্রিল ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। যেখানে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বর্তমান কমিটি তিন মাসের মধ্যে একটি নির্বাচন আয়োজন করবে। গুঞ্জন আছে, দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন তামিম। সেখানেও তিনি সভাপতি হওয়ার জন্য লড়বেন। তাই তার সামনে সুযোগ আছে নির্বাচিত কমিটিতে ৪ বছরের জন্য সভাপতি হওয়ার। 




সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচনের ইভেন্টে উপস্থিত হয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী সাকিব। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক সময়ের সতীর্থ তামিমের বিসিবি সভাপতি হওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। সাকিব জানান, তামিমকে পরবর্তী নির্বাচনে বিসিবি সভাপতি হিসেবে বিজয়ী দেখতে চান তিনি। একইসাথে তামিমের মেধা ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট উপকৃত হবে বলেও বিশ্বাস তার।




এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, 'আমি বলতে চাই সে (তামিম ইকবাল) তো এখনও নির্বাচিত সভাপতি হয়নি, মূলত নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। তবে আমি আশা করি, পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সে-ই পূর্ণ মেয়াদে বিসিবি সভাপতি হবে। তামিমের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আছে এবং তার মেধা ও নেতৃত্ব দ্বারা বাংলাদেশ ক্রিকেট অবশ্যই উপকৃত হবে।'




এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব। পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে থাকলেও তার বিসিবিতে ফেরার বিষয়টি বারবার আলোচিত হয়েছে। ফারুক আহমেদের বোর্ড থেকে শুরু, এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডে সাকিবকে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু বিসিবিতে বারবার পরিবর্তন এলেও সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়টির এখনও সুরাহা হয়নি। 




এখন বর্তমানে বিসিবির শীর্ষ পদে থাকা তামিম ইকবালের কাঁধে থাকায় নতুন করে আশা দেখছেন সাকিব। তাই তার মুখে এমন প্রশংসা ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে 'বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়' হিসেবে দেখছেন। দুজনের সুসম্পর্ক সাকিবের দেশে ফেরার পথকে সুগম করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। 




বিশেষ করে যখন সাকিব নিজেই দেশে ফিরে মিরপুরের মাঠে ভক্তদের সামনে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন এবং বিসিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দেখা যাক। আশা করি সব আস্তে আস্তে ভালো হবে। আমি আশাবাদী, আমার চাওয়া পূরণ হবে।






অন্যদিকে, ৩৭ বছর বয়সী তামিম ইকবালের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ৩ মাসের মধ্যে সুষ্ঠু একটি নির্বাচন আয়োজন করা। যদি তিনি নিজে সেই নির্বাচনে অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন, তবে বিসিবির ইতিহাসে প্রথম কোনো সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ ৪ বছরের জন্য সভাপতির আসনে বসার সুযোগ পাবেন তিনি।






সাকিব ও তামিম—দেশের ক্রিকেটের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। মাঠের বাইরে তাদের ব্যক্তিগত দূরত্ব যাই থাকুক না কেন, ক্রিকেটের স্বার্থে সাকিবের এই প্রকাশ্য সমর্থন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সাকিবের এই 'বন্ধুত্বের বার্তা'র বিপরীতে 

তামিম ইকবালের পক্ষ থেকে কেমন সাড়া আসে।


No comments

Powered by Blogger.